আইসিসিবিতে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন করলেন বিমানমন্ত্রী
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক এই পর্যটন মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে নতুন, উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগ নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক বিস্তৃত। সুন্দরবন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ, সিলেটের চা-বাগান, নদী-হাওরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে একটি ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। পর্যটনের উন্নয়ন শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশ। এ অবদান বাড়িয়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে, আগামীকাল থেকে নয়। দেশের জন্য আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে। কেউ আমাদের হয়ে কাজ করবে না।’মন্ত্রী পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে উদ্ভাবনী ও ব্যয় সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের পর্যটনকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
দেশি-বিদেশি পর্যটনপ্রেমীদের আকর্ষণ এবং পর্যটনশিল্পের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার জানিয়েছে, এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে প্রায় ৩০০টি বুথ থাকবে। মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটনপ্রতিষ্ঠান, বিদেশি দূতাবাস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পর্যটনপণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। পাশাপাশি বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন থাকবে। মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে।





