বুধবার৪ নভেম্বর ২০২৬
মুক্ত তথ্য - The Daily Muktotathya
বিজ্ঞাপন/গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন
প্রচ্ছদ/লাইফস্টাইল/ত্বকের যত্নে ঘি : উপকার কতটা, কারা ব্যবহার করবেন না
লাইফস্টাইল

ত্বকের যত্নে ঘি : উপকার কতটা, কারা ব্যবহার করবেন না

রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ঘি এখন জায়গা করে নিচ্ছে রূপচর্চাতেও। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখা কিংবা ত্বককে সাময়িকভাবে নরম অনুভব করাতে অনেকে মুখে ঘি ব্যবহার করেন।

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:১২ PM16 বার পঠিত
ত্বকের যত্নে ঘি : উপকার কতটা, কারা ব্যবহার করবেন না
সংবাদটি শেয়ার করুন:

মুক্ততথ্য ডেস্ক

রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ঘি এখন জায়গা করে নিচ্ছে রূপচর্চাতেও। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখা কিংবা ত্বককে সাময়িকভাবে নরম অনুভব করাতে অনেকে মুখে ঘি ব্যবহার করেন। ঘরোয়া ফেসপ্যাকেও অল্প পরিমাণ ঘি মেশানোর চল রয়েছে। ঘিতে কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে। এগুলো ত্বকে মসৃণতা ও আর্দ্রতার অনুভূতি দিতে পারে। তবে মুখে ঘি লাগালেই দাগ দূর হবে, বলিরেখা কমবে বা সব ধরনের ত্বকের সমস্যা চলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ত্বকের ধরন বুঝে ঘি ব্যবহার করা জরুরি।

মুলতানি মাটি ও ঘি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য ঘি ও প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। মুখে পাতলা করে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে মুলতানি মাটি অনেকের ত্বক আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বেসন, হলুদ ও ঘি এক চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য হলুদ ও অল্প ঘি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়। প্রয়োজন হলে এতে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে। মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এ ধরনের প্যাকে লেবুর রস মেশানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। লেবু বা অন্যান্য ফলের রস ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রোদে যাওয়ার পর ত্বকে প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঘি ও জাফরান এক চিমটি জাফরানের সঙ্গে অল্প ঘি মিশিয়ে হালকা পেস্ট তৈরি করা যায়। মুখ ও গলায় খুব আলতোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ঘি খুব বেশি ব্যবহার করলে মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোরে ঘষাঘষি বা দীর্ঘ সময় ম্যাসাজ না করাই ভালো। অতিরিক্ত ঘর্ষণে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

দুধ, বেসন ও ঘি শুষ্ক ত্বকের জন্য বেসন, সামান্য দুধ ও অল্প ঘি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সপ্তাহে একবার এ ধরনের প্যাক ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগ দূর হবে বা ত্বকের রং বদলে যাবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। ঘরোয়া ফেসপ্যাক মূলত সাময়িকভাবে ত্বককে নরম ও মসৃণ অনুভব করাতে পারে।

সবার ত্বকে কি ঘি মানাবে? ঘি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে। মুখে ভারী বা তেলতেলে উপাদান ব্যবহার করলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ‘নন-কমেডোজেনিক’, অর্থাৎ ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করার ঝুঁকি কম এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। নতুন কোনো ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলাভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তাই ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহার করতে চাইলে অল্প পরিমাণে এবং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করাই ভালো। সুস্থ ত্বকের জন্য নিয়মিত মৃদু ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের মতো প্রমাণভিত্তিক যত্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য ও আলোচনা