প্যারিস খাল : ফুটস্টেপস ও গো আপ ফাউন্ডেশনের “চলো খাল বাঁচাই” অভিযান
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস খাল। দীর্ঘদিন ধরে খালটি অযত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অবৈধ স্থাপনা এবং অসচেতন নাগরিকরদের ফেলা ময়লা আবর্জনায় খালটির বেহাল দশা থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশ।

মুক্ততথ্য ডেস্ক
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী প্যারিস খাল। দীর্ঘদিন ধরে খালটি অযত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অবৈধ স্থাপনা এবং অসচেতন নাগরিকরদের ফেলা ময়লা আবর্জনায় খালটির বেহাল দশা থেকে মুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশ। এতে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে শয়ং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উদ্যোগটি সফল করতে আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “গো-আপ ফাউন্ডেশন” তাদের স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এই কার্যক্রমে অংশ নেয়।
এরই মধ্যে খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের কাজ ৮৫-৯০% শেষ হয়েছে। দ্রুতই সব খালটির উপরে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
ডিএনসিসির সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের "চলো খাল বাঁচাই" উদ্যোগের আওতায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান চলবে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। এর লক্ষ্য খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা কমানো এবং আশপাশের মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা। তবে নাগরিকরা সচেতন না হলে এবং খালে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে এই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মনের করেন অনেকে।
উদ্যোগটি আরও বেশি সফল করতে “গো-আপ ফাউন্ডেশন” তাদের বহু স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার কাজে ফুটস্টেপস বাংলাদেশকে পুরো ধমে সহায়তা করছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "যত বাধাই আসুক, নগরবাসীকে সাথে নিয়ে ক্লিন ও গ্রিন ঢাকা রূপকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের কাজ ৮৫-৯০% শেষ। দ্রুতই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তবে নাগরিকরা সচেতন না হলে এবং খালে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে এই উদ্যোগ সফল হবে না। এরপর কেউ খালে ময়লা ফেললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেঁরে-শার্লে বলেন, "নগরীর পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। ঢাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই খালের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে।"
ফুটস্টেপস বাংলাদেশ জানায়, "চলো খাল বাঁচাই" ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য শুধু খাল পরিষ্কার করা নয়, বরং স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন করা। তারা বলে, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে নতুন প্রজন্ম পরিবেশ নিয়ে কতটা সচেতন। খালটি পরিষ্কারের পর যেন পুনরায় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত না হয়, সেজন্য স্থানীয় কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।
গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী আব্দুল জাহিদ বলেন, "এই দেশ আমাদের, শহরটাও আমাদের। তাই এই শহরে বসবাস করতে হলে একে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মানুষকে সচেতন করার কাজও আমাদেরকেই করতে হবে। গো আপ ফাউন্ডেশন সবসময় দেশের কল্যাণে ভালো কাজ করে, তাই আজও এই ভালো উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।" খালটি পুরোপুরি পরিষ্কারের পর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ), বসার জায়গা ও গ্রিন পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যেন খালে ময়লা না ফেলেন এবং খাল পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মতে, খালের পাশে বসবাসকারী মানুষের সচেতনতা ছাড়া খালকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আয়োজকরা ডিএনসিসি, ফ্রান্স সরকার এবং অংশগ্রহণকারী সব স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা আশা করেন, এই অভিযান ঢাকার অন্যান্য খাল রক্ষায়ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।
গো আপ ফাউন্ডেশন একটি বাংলাদেশি অলাভজনক সংগঠন, যা শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে।





