লাহোর হাইকোর্টে ব্যর্থ হয়ে এবার আইসিসির দ্বারস্থ রিজওয়ান
লাহোর হাইকোর্টে রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শরণাপন্ন হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

স্পোর্টস ডেস্ক
লাহোর হাইকোর্টে রিট পিটিশন খারিজ হওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শরণাপন্ন হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের মুঠোফোন জব্দ করা, ইংল্যান্ড থেকে তা পাকিস্তানে স্থানান্তর এবং পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষা—সমগ্র প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন বিধিমালা মেনে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) রিজওয়ানের ফোন জব্দ করেছিল। পরে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। ফোন জব্দের প্রক্রিয়া এবং এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন রিজওয়ান। বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরই আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তদন্তে নামে এনসিসিআইএ। তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিও নিউজের খবর অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের এনসিসিআইএ কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন দুজন। ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় তারা কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তাঁদের কাছে কী তথ্য রয়েছে, এসব বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়।
তবে তদন্তটি শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এনসিসিআইএ অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়েও তদন্ত করছে। রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এনসিসিআইএর তলব পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন রিজওয়ান। তার দাবি ছিল, সংস্থাটির নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। এনসিসিআইএর সামনে হাজির হওয়ার পরও অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার দাবি অনুযায়ী, তাকে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
লাহোর হাইকোর্টে শুনানির সময় রিজওয়ানের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের পর আইসিসির কাছে নিজের প্রশ্নগুলো তুলেছেন রিজওয়ান। তিনি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তার মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কিছু জানত কি না। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।
তবে রিজওয়ানের এই অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয় বলেও জানিয়েছে জিও নিউজ। বরং তিনি জানতে চাইছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি না। পাশাপাশি, এ অবস্থায় তার পরবর্তী করণীয় কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আইসিসির দিকনির্দেশনাও চেয়েছেন তিনি।
এদিকে রিজওয়ানের ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফোনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়। চলমান তদন্তের কারণে বিষয়টি নিয়ে পিসিবি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এই তদন্তের সময়েই পাকিস্তানের টেস্ট দলেও বড় পরিবর্তন আসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান, ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন রিজওয়ানের আইসিসিতে করা অনুসন্ধানের জবাব কী আসে, সেটিই দেখার বিষয়।





