হ্যালোইনের রাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২৪, আহত ৯৪
উৎসবের আমেজ নিমেষেই মুছে গিয়ে নেমে এলো শোক ও আতঙ্কের ছায়া। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হ্যালোইন উদযাপনের রাতে এক অভূতপূর্ব বন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় তাণ্ডবলীলা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উৎসবের আমেজ নিমেষেই মুছে গিয়ে নেমে এলো শোক ও আতঙ্কের ছায়া। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হ্যালোইন উদযাপনের রাতে এক অভূতপূর্ব বন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়্যার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় তাণ্ডবলীলা। নাইটক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় টেক্সাসের ডালাস শহরের ঐতিহ্যবাহী দীপ এলুম এলাকায়। সেখানে মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজনের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন ১৫ জন। হ্যালোইন উপলক্ষে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই সহিংসতা রোখা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় আতঙ্কিত মানুষের হুড়োহুড়ি করে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটে পালানোর একাধিক দৃশ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধরা পড়ে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
হ্যালোইনের এই রক্তাক্ত রাতে সহিংসতার শিকার হয়েছে নিষ্পাপ শিশুও। মিশিগানের ডেট্রয়েটে উৎসবের পোশাক পরা এক ৫ বছরের শিশু ঘরে খেলাধুলা করার সময় বাইরে থেকে আসা লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ হয়। বুকে গুলি লাগার পর অবোধ শিশুটি নিজেই তার মাকে এসে বলে যে সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে দুটি পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী হ্যালোইন পার্টির প্রবেশপথে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে প্রাণ হারান। অন্য একটি ঘটনায় শতাধিক মানুষের এক পার্টিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সেখানে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন।
সহিংসতার এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও। উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কস্টিউম দোকানে ঢুকে এক সশস্ত্র হামলাকারী চার সন্তানের এক অন্তঃসত্ত্বা মাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এতে দুই কিশোরসহ আরও ছয়জন মারাত্মক আহত হন। এ ছাড়া ওকলাহোমা সিটির এক ট্রেলার পার্কে হ্যালোইন উৎসব চলাকালে কথা-কাটাকাটির জেরে গোলাগুলি হয়, আবার মিশিসিপির জ্যাকসনে এক নাইটক্লাবে দুজন ও অ্যালবামার বার্মিংহামের স্টেডিয়াম এলাকায় একজন প্রাণ হারান। ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও হ্যালোইন উদযাপনের সময়ে একাধিক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে, যাতে বহু তরুণ-তরুণী আহত হয়েছেন।
অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, হ্যালোইনের রাতে মুখোশ বা ছদ্মবেশের কারণে পরিচয় আড়াল রাখা সহজ হওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান ও মাদকের ব্যবহার এবং সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাওয়ার সুযোগ—এসব উপাদান মিলেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে সহিংস দিনগুলোর তালিকায় হ্যালোইন অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটিই বছরের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিন।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস





