গাইবান্ধার চরাঞ্চলে রঙিন গাজর চাষের সম্ভাবনা, বীজ পেলেন ৫০ কৃষক
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে রঙিন গাজর চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বীজ বিতরণ ও কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুক্ততথ্য ডেস্ক (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে রঙিন গাজর চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বীজ বিতরণ ও কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী উন্নত জাতের গাজর চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ফেলো শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম। এ সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. হারুন অর-রশিদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণার মূল লক্ষ্য দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের গাজর নির্বাচন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে এসব জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (বিএএস) আর্থিক সহায়তায় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধানে গাজরের বিভিন্ন জাত ও জার্মপ্লাজম নিয়ে গবেষণা চলছে। এতে ৪০টি দেশি-বিদেশি জাত ও জার্মপ্লাজম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী জাত নির্বাচন এবং অধিক ফলনের সম্ভাবনা যাচাই করছেন গবেষকেরা।
গবেষক ড. হারুন অর-রশিদ বলেন, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে গাইবান্ধার চরাঞ্চলে গাজর চাষ লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি জানান, গত বছর কামারজানি ব্রহ্মপুত্র চরের আমিন মিয়া (৬০) ও তোলাপী বেগমের ছেলে তছলিম মিয়া (২৮) তাঁদের পতিত ৩০ শতাংশ জমিতে উন্নত জাতের গাজর চাষ ও বীজ উৎপাদন করেন। তাঁদের সফলতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ বছর ৫০ জন কৃষকের কাছে গাজর চাষের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে কামারজানি চরসহ গাইবান্ধার অন্যান্য চরাঞ্চলেও গাজর চাষ সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে।





