ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি : রিপোর্ট
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।

আন্তর্জাতি ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ছয়জন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে বলা হয়, বিভাগের অভ্যন্তরীণ হতাহতের হিসাব সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’-এ নিহতের সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ২৩ জন। তবে এর মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যুদ্ধ চলাকালে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক কর্মী ছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদারও মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বিভাগের পাবলিক ডেটাবেসে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অধীনে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য ছিল। আরও চারজনের মৃত্যু ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বা বিদেশি অভিযানের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই ডেটাবেস অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নিহতের সংখ্যা নিয়ে এই অসামঞ্জস্য প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরে প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি করেছে। কর্মকর্তারা জানতে চাইছেন, অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনাগুলো কেন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতাহত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংবাদমাধ্যটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন মিশনে ওই অঞ্চলে নিহত দুজন মার্কিন সেনার তথ্যও প্রতিরক্ষা বিভাগের পাবলিক পোর্টালে প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো মার্কিন সেনা মারা গেলে সামরিক বাহিনী সাধারণত ‘লাইন-অফ-ডিউটি ইনভেস্টিগেশন’ পরিচালনা করে। এই তদন্তের মাধ্যমে নিহত সেনার পরিবারের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সুবিধা ও সহায়তা নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে জুলাই মাসেও প্রতিরক্ষা বিভাগের হতাহতের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার নাম সরকারি পাবলিক ডেটাবেস থেকে সরিয়ে পরে ভিন্ন একটি ক্যাটাগরিতে যুক্ত করা হয়েছিল। সে সময় প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্ররা বিষয়টিকে ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন, এটি সমাধান করা হবে। চলতি মাসের শুরুতে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, যুদ্ধের সময় নিহত কয়েকজন মার্কিন সেনার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিরক্ষা বিভাগ অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। মার্কিন সামরিক অভিযানে হতাহতের সরকারি হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো।





