পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার : রংপুরে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে বিপ্লব
রংপুরের কৃষকরা ক্ষতিকর পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে আশাতীত সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। তারা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে ‘ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো’র পথ তৈরি হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করায় একদিকে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমছে, উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসছে, পাশাপাশি পরিবেশ থাকছে দূষণমুক্ত।

মফস্বল ডেস্ক, রংপুর
রংপুরের কৃষকরা ক্ষতিকর পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে আশাতীত সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। তারা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে ‘ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানো’র পথ তৈরি হয়েছে। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করায় একদিকে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমছে, উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসছে, পাশাপাশি পরিবেশ থাকছে দূষণমুক্ত। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি করে পোকামাকড়। এ ছাড়া এর হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে আরও ১০ শতাংশ। কিন্তু পার্চিং পদ্ধতির ফলে কৃষকরা যেমন ফসলের পোকামাকড় দমন করতে পারছেন, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসছে। বর্তমানে আমন ধান কাটা-মাড়াই মৌসুম চলছে। এ সময় পোকা দমনে কৃষকরা ব্যবহার করছেন পার্চিং পদ্ধতি। রংপুরে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে এ পার্চিং পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে পাখিরা দোল খেতে খেতে আরামে পোকা ধরে খেয়ে ফেলতে পারে। ফলে ফসলের ক্ষতি কম হয়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় পার্চিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ লাখ ২২ হাজার ৬৯০টি। সেখানে ব্যবহার হচ্ছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৫০টি। সূত্র জানায়, এ অঞ্চলে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতির বিষয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জমির উঁচু স্থানে পাখি বসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই পার্চিং। উঁচু স্থান তৈরি করার ক্ষেত্রে বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডালপালা, ধইঞ্চা গাছ ব্যবহার করা যায়। পার্চিং পোকা দমনের একটি সহজ পদ্ধতি। কম খরচ ও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতিতে পোকা ধরে খাওয়ার জন্য পাখিকে বসার জন্য জায়গা করে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য থাকে। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়।
কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, এ পদ্ধতির কারণে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে। বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। তাছাড়া পার্চিংয়ের মাধ্যমে পোকার বংশবিস্তারও কমানো যায়। সহজেই পোকার বসতি ধ্বংস করা যায়। এমনকি পোকার বসতি তেরি করার সুযোগও নষ্ট করা যায়। এ ছাড়া পাখির বিষ্টা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে, যা জমির উর্ববরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল, সাত ভায়লা পাখি পার্চিংয়ে বসে পোকা ধরে খায়। একটি ফিঙে পাখি সারা দিনে কমপক্ষে ৩০ টি করে মাজরা পোকার মথ, ডিম, কীড়া ও পুত্তলী খেয়ে থাকে। একটি পাখির দ্বারা প্রতি মাসে কমপক্ষে ২ লাখ ৭০ হাজার পোকা ধ্বংস করা সম্ভব হয়। পাখিরা মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপার পোকার মথ ধরে ধরে খায়। লার্ভাগুলোর মধ্যে এরা শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুড় লেদা পোকার কীড়া খায়। খাটো শুড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শুড় ঘাস ফড়িং, উড়চুঙ্গা এসব ফড়িংগুলোও খেয়ে ফেলে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পার্চিং পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকরা বিষমুক্ত ফসল পাচ্ছেন। ক্ষতিকারক পোকা দমণ হচ্ছে। এই পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।





