শনিবার১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুক্ত তথ্য - The Daily Muktotathya
বিজ্ঞাপন/গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন
প্রচ্ছদ/আন্তর্জাতিক/বোর্ড ও ট্রাস্টের দ্বন্দ্বে টাটা সাম্রাজ্যে অস্থিরতা
আন্তর্জাতিক

বোর্ড ও ট্রাস্টের দ্বন্দ্বে টাটা সাম্রাজ্যে অস্থিরতা

লবণ থেকে ইস্পাত, অনেক কিছুই তৈরি করে ভারতের শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপ। রতন টাটার হাত ধরে টাটা গ্রুপ প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হয়েছে, তার আধুনিকীকরণও হয়েছে যা এই গোষ্ঠীকে ব্যবসায়িক দিক থেকে বিশ্বস্তরের 'পাওয়ার হাউস'-এ রূপান্তরিত করেছে।

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৫:০৫ AM9 বার পঠিত
বোর্ড ও ট্রাস্টের দ্বন্দ্বে টাটা সাম্রাজ্যে অস্থিরতা
সংবাদটি শেয়ার করুন:

আন্তর্জাতি ডেস্ক

লবণ থেকে ইস্পাত, অনেক কিছুই তৈরি করে ভারতের শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপ। রতন টাটার হাত ধরে টাটা গ্রুপ প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হয়েছে, তার আধুনিকীকরণও হয়েছে যা এই গোষ্ঠীকে ব্যবসায়িক দিক থেকে বিশ্বস্তরের 'পাওয়ার হাউস'-এ রূপান্তরিত করেছে। তবে এই মুহূর্তে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি টাটা গোষ্ঠী। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং টেটলি টি-র মতো ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের মালিকানাধীন এবং ভারতে অ্যাপলের জন্য আইফোন তৈরি করা বিজনেস এম্পায়ার টাটা গ্রুপ আরো একবার অভ্যন্তরীণ বিবাদের সঙ্গে লড়ছে।

গত কয়েক মাস ধরে এই শিল্পগোষ্ঠীর ট্রাস্টিদের মধ্যে চলমান বোর্ডরুমের লড়াই গোষ্ঠীর ভেতরকার গভীরতর দ্বন্দ্বকে আরো একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন ভারতের টাটা গ্রুপ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট মোকাবেলা করছে। কোম্পানির বোর্ডকে তার নিয়ন্ত্রণকারী চ্যারিটি ট্রাস্টের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং ১৫৮ বছরের পুরোনো এই শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বাণিজ্যিক লবণ থেকে বিমান পরিষেবা—বার্ষিক ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয়ের এই বিশাল শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল বিরোধ।

যা নিয়ে দ্বন্দ্ব: টাটা সানসের সম্ভাব্য আইপিও বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি, এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রমাগত লোকসান এবং একটি সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারের মালিকানা ছেড়ে দেওয়া—এমন কিছু বিষয় নিয়ে টাটা সানস ও এর নিয়ন্ত্রণকারী চ্যারিটি ট্রাস্ট 'টাটা ট্রাস্টস'-এর মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছে। টাটা ট্রাস্টসের প্রধানের বিরোধিতা সত্ত্বেও, গ্রুপটির হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সানসের বোর্ড গত বৃহস্পতিবার নটরাজন চন্দ্রশেখরনকে আবারও পরবর্তী ৫ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর টাটা ট্রাস্টস প্রকাশ্যে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি অভ্যন্তরীণ নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি টাটা সানসের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাস্টস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এটি মূলত চ্যারিটি-ভিত্তিক একটি গ্রুপের মূল চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যকে "ধ্বংস" করে দেবে।

শক্তিশালী টাটা ট্রাস্টস যারা পরিচালনা করে এবং এর ইতিহাস: টাটা ট্রাস্টসের কাছে টাটা সানসের ৬৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এবং এটি পরিচালনা করছেন টাটা পরিবারের সদস্য নোয়েল টাটা। অপারেটিং কোম্পানিগুলো থেকে পাওয়া লভ্যাংশ এই ট্রাস্টগুলোর মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। টাটারা পারসি সম্প্রদায়ের—যারা মূলত পারস্য থেকে পালিয়ে আসা পারসিয়ানদের বংশধর এবং ধারণা করা হয় অষ্টম শতকের দিকে তারা পশ্চিম ভারতে বসতি স্থাপন করেছিলেন। চন্দ্রশেখরন টাটা পরিবারের কেউ নন। তবে তিনি ১৯৮৭ সালে এই গ্রুপে যোগ দেন।

ট্রাস্টগুলো এত প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না যে কারণে টাটা ট্রাস্টসের কিছু নিজস্ব অভ্যন্তরীণ জটিলতা রয়েছে, যা বর্তমানে শিল্পগোষ্ঠীটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিচ্ছে। ট্রাস্টস হলো একাধিক সহযোগী চ্যারিটি বা জনকল্যাণমূলক তহবিলের একটি প্ল্যাটফর্ম। এর অন্যতম বড় দুটি ট্রাস্টের একটি—'স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট'—একাই টাটা সানসের ২৩.৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক। তবে ট্রাস্টি নিয়োগ নিয়ে বিরোধের কারণে চ্যারিটি বিষয়ক একজন নিয়ন্ত্রক 'স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট'-কে তাদের ট্রাস্টিদের নিয়ে কোনো মিটিং ডাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফলে ট্রাস্টটি বর্তমানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

প্রথম দর্শনে, চ্যারিটি ট্রাস্টের ৬৬ শতাংশ শেয়ার টাটা সানসের যেকোনো সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মিটিং ডাকতে পারছে না এবং এই মুহূর্তে নিজেদের দাবি বা এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।

টাটা গ্রুপ কত বড় এবং তাদের গ্রাহক যারা: ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত টাটা গ্রুপ বর্তমানে ছয়টি মহাদেশের ১০০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টাটা সানস মূলত ৩০টিরও বেশি টাটা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), টাটা মোটরস এবং বিশ্বের প্রাচীনতম ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি—টাটা স্টিল। অ্যাপল এবং টেসলার মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তাদের গ্রাহক এবং স্টারবাকস তাদের অন্যতম ব্যবসায়িক অংশীদার।

টাটা গ্রুপের কোম্পানিগুলো যৌথভাবে গত অর্থবছরে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। টাটার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এর ২৬টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন ছিল ২৭৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব স্বাধীন বোর্ড এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। চ্যারিটি ট্রাস্টের দৃষ্টিভঙ্গি এবং টাটা সানস বোর্ডের সাথে মতপার্থক্য যেখানে টাটা ট্রাস্টসের যুক্তিসঙ্গত দাবি ছিল, টাটা সানসের চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মতো যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য বোর্ডে থাকা ট্রাস্টের দুজন মনোনীত প্রতিনিধি—নোয়েল টাটা এবং ভেনু শ্রীনিবাসনের ভোট আবশ্যক।

নোয়েল টাটা চেয়ারম্যানের পুনর্নিয়োগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও শ্রীনিবাসন তা করেননি যা ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের নিজস্ব বিভেদকেই সামনে এনেছে। নোয়েল টাটার যুক্তি—যেহেতু দুজন ট্রাস্টির ভোট দুই দিকে গেছে, তাই এই পুনর্নিয়োগ অবৈধ। অন্যদিকে টাটা সানসের অবস্থান হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের ভিত্তিতেই পুনর্নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, তাই এতে আইনি কোনো গলদ নেই। পাবলিক লিস্টিং বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি এত বড় বিরোধের কারণ যে কারণে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) টাটা সানসকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

গত বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভায় টাটা সানসের বোর্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলেও নোয়েল টাটা এতে রাজি নন। বৃহস্পতিবার শেষরাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে টাটা ট্রাস্টস জানায়, হোল্ডিং কোম্পানিটির উচিত অন্য কোনো বিকল্প পথ খোঁজা। তাদের মতে, 'টাটা গ্রুপের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য অনন্য, কারণ এর সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক একটি চ্যারিটি—আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি এর মূল চরিত্র ও দর্শনকে নষ্ট করে দেবে।' তবে টাটা সানসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার 'শাপরজি পালোনজি গ্রুপ' হোল্ডিং কোম্পানিটির সম্ভাব্য তালিকাভুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে। এই গ্রুপটির প্রধান শাপুর মিস্ত্রি, যার বোন নোয়েল টাটার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ।

টাটা গ্রুপে যা হতে যাচ্ছে: আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডারের বিরোধিতা সত্ত্বেও চেয়ারম্যানের পুনর্নিয়োগ এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করার বোর্ড সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যেতে পারে টাটা ট্রাস্টস। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টাটা সানসের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ আটকে দেওয়ার সুযোগ ট্রাস্টসের সামনে রয়েছে। তবে এর আগে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের পথ খুলল

বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের পথ খুলল

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।



ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি : রিপোর্ট

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি : রিপোর্ট

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।

বিস্তারিত......

সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিস্তারিত......


বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইতালি

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি।

বিস্তারিত......