বুধবার৪ নভেম্বর ২০২৬
মুক্ত তথ্য - The Daily Muktotathya
বিজ্ঞাপন/গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন
প্রচ্ছদ/সাহিত্য/গল্প : সীমানদী
সাহিত্য

গল্প : সীমানদী

সেই কবে কোন কালে, ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নদীয়া জেলার শিমুলিয়া গ্রামে সন্ধ্যা নামলে, দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে।

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:০৪ PM23 বার পঠিত
গল্প : সীমানদী
সংবাদটি শেয়ার করুন:

মুহাম্মদ কামাল হোসেন

সেই কবে কোন কালে, ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নদীয়া জেলার শিমুলিয়া গ্রামে সন্ধ্যা নামলে, দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। একটু পর কোনো উঠো শঙ্খ বাজে। ধানের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকে। বাঁশঝাড়ের মাথায় শেষ আলোটা আটকে থাকে কিছুক্ষণ। মাঠ থেকে গরু ফিরে আসে ধীরে। রাখালের কাঁধে লাঠি। পায়ের নিচে শুকনো মাটি।

গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় নদী। বর্ষায় ফুলে ওঠে, শীতে সরু হয়ে যায়। নদীর ওপারে আরেক দেশ।

আবদুল করিম মোল্লা প্রতিদিন বিকেলে নদীর ধারে এসে বসেন। বয়স আশির কাছাকাছি। শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। হাঁটতে গেলে পুরোনো একটা বাঁশের লাঠি লাগে। তবু বিকেল নামার আগে তিনি নদীর কাছে না এলে যেন দিনটাই শেষ হয় না।

ছেলে রাশেদ অনেকবার বলেছে, “আব্বা, রোজ এত দূর আসার দরকার কী?”

করিম মোল্লা কোনো উত্তর দেননি।

একদিন নদীর দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “ওপারে আমাদের বাড়ি ছিল।”

রাশেদ হেসে বলেছিল, “আপনার বাড়ি তো এখানেই আব্বা।”

করিম মোল্লা ছেলের দিকে তাকিয়েছিলেন। চোখে রাগ ছিল না। ছিল অনেক দূরের একটা ক্লান্তি।

বলেছিলেন, “মানুষ সবসময় যেখানে থাকে, তার বাড়ি সেখানে থাকে না।”

রাশেদ কথাটার মানে বুঝতে পারেনি।

করিম মোল্লার বর্তমান ঠিকানা বাংলাদেশে কুমিল্লার মাধবপুর গ্রামে। তখনো দেশ ভাগ হয়নি। ওপারে শিমুলিয়া গ্রামের পাশে ছিল একটা বড় নদী। নদীর পাড়ে কদমগাছ। বর্ষা এলে গাছের নিচে কাদা জমত। কদমফুল ফুটলে গন্ধে চারপাশ ভরে যেত।

সেই গ্রামেই ছিল হরিদাস।

হরিদাস ছিল করিমের সমবয়সি। দুজনের বাড়ির মাঝখানে একটা বাঁশঝাড়। স্কুলে যাওয়ার সময় পাশাপাশি হাঁটত। বর্ষার দিনে নদীতে সাঁতার কাটত। গরমের দুপুরে আমগাছে উঠত। কার কোন গাছের আম আগে পাকলো, কার গাছে সবচেয়ে মিষ্টি আম, এসব তাদের নখদর্পণে ছিল।

একবার করিম কদমগাছ থেকে পড়ে কপাল ফাটিয়ে ফেলেছিল। রক্ত দেখে হরিদাস এত ভয় পেয়েছিল, নিজের গামছা ছিঁড়ে কপালে বেঁধে দিয়েছিল।

হরিদাসের চোখে পানি ছিল।

করিম বলেছিল, “কাঁদিস না। আমি মরব না।”

হরিদাস নাক টেনে বলেছিল, “তুই মরে গেলে আমি কার সঙ্গে খেলব?”

করিম হেসেছিল।

সেই হাসি বহু বছর পরও করিমের মনে ছিল।

১৯৪৭ সাল আসার আগে গ্রামের বাতাস বদলাতে শুরু করেছিল। বাজারে লোকজন নিচু গলায় কথা বলত। পাকিস্তান হবে, হিন্দুস্তান হবে, কে কোথায় যাবে, কার বাড়ি থাকবে, কার জমি থাকবে, এসব নিয়ে নানা কথা ছড়াত।

করিম এসব বুঝত না। তার কাছে দেশ মানে ছিল শিমুলিয়া। নদী, মাঠ, কদমগাছ, স্কুল, হরিদাস।

এক রাতে দূরের কোনো গ্রামে আগুন দেখা গেল। আকাশের নিচে লাল আভা উঠেছিল। গ্রামের পুরুষেরা দল বেঁধে রাস্তার দিকে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের ভেতর নারীরা দরজা বন্ধ করে বসেছিল।

করিমের বাবা সেদিন রাতে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন।

শেষে বললেন, “কিছুদিনের জন্য আমাদের অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।”

করিমের মা বলেছিলেন, “কতদিন?” কোথায়?

বাবা কোনো উত্তর দেননি।

পরদিন ভোরে নৌকা ঠিক হলো।

মা একটা পুরোনো কাঠের বাক্সে কাপড় গুছিয়ে নিলেন। করিমের ছোট বোন রওশন মায়ের আঁচল ধরে ছিল। উঠোনের এক কোণে দাঁড়িয়ে করিম শেষবারের মতো ঘরটার দিকে তাকিয়েছিল।

বাবা বলেছিলেন, ‘‘তোমরা যাও। আমি পরে আসব।”

করিম বিশ্বাস করেছিল।

হরিদাস ঘাটে দৌড়ে এলো।

তার হাতে ছোট একটা বাঁশের বাঁশি।

সে বাঁশিটা করিমের হাতে দিয়ে বলল, “রাখ।”

করিম বলল, “তুই রাখবি না?”

হরিদাস মাথা নাড়ল।

“আমার আরেকটা আছে।”

করিম জানত, হরিদাস মিথ্যা বলছে।

নৌকা ছাড়লো।

হরিদাস হাঁটুপানি পর্যন্ত নেমে নৌকার সঙ্গে হাঁটতে লাগল।

করিম চিৎকার করে বলল, ‘‘তুই থাক। আমি আবার আসব।”

হরিদাস বলল, “আমি থাকব।”

নৌকা একটু দূরে চলে গেল।

কদমগাছটা তখনও দেখা যাচ্ছিল। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে হরিদাস ছোট হয়ে গেল। তারপর নদীর বাঁক পেরিয়ে সে চোখের আড়াল হলো।

করিমের বাবা আর আসেননি। তার কথা এরপর আর এ গল্পের কোথাও নেই।

অনেকদিন অপেক্ষা করেছিলেন মা। প্রতিদিন বিকেলে ঘাটে গিয়ে দাঁড়াতেন। কারও নৌকা এলেই দূর থেকে তাকিয়ে থাকতেন।

একদিন অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়লেন।

মৃত্যুর আগে করিমকে কাছে ডেকে বলেছিলেন, “তোর আব্বাকে বলিস, আমি রাগ করিনি।” আমি তার কষ্টটা বুঝতে পেরেছি। মেনেও নিয়েছি।”

করিম তখন কাঁদছিল।

মা আর কিছু বলেননি।

রওশনের বিয়ে হয়েছিল কয়েক বছর পর। অন্য গ্রামে চলে গেল সে। ধীরে ধীরে যোগাযোগও কমে গেল।

করিম নতুন জায়গায় সংসার করল। কাজ করল। বিয়ে করল। তার ছেলে হলে নাম রাখল রাশেদ।

রাশেদ বড় হতে হতে বাবার মুখে শিমুলিয়ার গল্প শুনেছে অসংখ্যবার।

হরিদাসের গল্প।

কদমগাছের গল্প।

নদীর গল্প।

রওশনের গল্প।

আর সেই বাড়ির গল্প, যার উঠোনে এখন কেউ নেই।

রাশেদের কাছে এসব ছিল পুরোনো দিনের কথা। সে বাবাকে ভালোবাসত, কিন্তু বাবার স্মৃতির ভেতর ঢোকার মতো সময় বা আগ্রহ তার ছিল না। এর মধ্যে আরও কত কি হয়েছে। বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। তাও প্রায় অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেছে।

একদিন রাশেদ বলেছিল, “আব্বা, এত বছর পর ওই বাড়ির কথা মনে রেখে আর কী হবে?”

করিম মোল্লা চুপ করে ছিলেন।

তারপর বলেছিলেন, “তুই কোনোদিন নিজের বাড়ি হারাসনি।”

রাশেদ কথাটা শুনে আর কিছু বলেনি।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করিম মোল্লার শরীর ভেঙে পড়তে লাগল। হাঁটতে কষ্ট হতো। তবু নদীর ধারে যাওয়া বন্ধ করেননি।

কখনো কখনো রাতে ঘুমের মধ্যে তিনি নাম ধরে ডাকতেন।

“রওশন”

কিছুক্ষণ পর বলতেন, “হরিদাস”

এক রাতে রাশেদ বাবার ঘরে গিয়ে শুনল, করিম মোল্লা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বলছেন, “ওকে বলিস, আমি বড্ড দেরি করে ফেলেছি।”

রাশেদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল।

কথাটা কার উদ্দেশে বলা, সে বুঝতে পারেনি।

পরদিন পুরোনো ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে সে একটা কাঠের বাক্স পেল। বাক্সের ভেতর কাপড়ের নিচে রাখা ছিল সেই বাঁশের বাঁশি।

আর ছিল একটা পুরোনো ছবি।

ছবিতে দুই কিশোর দাঁড়িয়ে আছে কদমগাছের নিচে। একজন করিম। আরেকজন হরিদাস।

রাশেদ অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকল।

সেদিন প্রথমবার তার মনে হলো, তার বাবা শুধু একটা বাড়ির কথা বলেননি। তিনি একটা পুরো জীবন বুকে নিয়ে ঘুরেছেন।

কয়েকদিন পর রাশেদ বাবার কাছে গিয়ে বলল, “আব্বা, শিমুলিয়া যাবেন?”

করিম মোল্লা প্রথমে কিছু বললেন না।

তারপর ধীরে ধীরে বললেন, “তুই নিয়ে যাবি?”

“হ্যাঁ।”

করিমের চোখে পানি এসে গেল।

“হরিদাস আছে তো?”

রাশেদ উত্তর দিতে পারল না।

শুধু বলল, “চলুন।”

সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাগজপত্র দেখাতে হলো। নাম, পরিচয়, অনুমতি, নানা প্রশ্ন।

রাশেদ বাবার দিকে তাকিয়ে দেখল, করিম মোল্লা চুপ করে বসে আছেন।

একসময় বললেন, “আমি এই মাটিতে জন্মেছি। এখানেই আমার নাড়ি পোঁতা আছে।’’

রাশেদ কোনো উত্তর দিল না।

নৌকা যখন শিমুলিয়ার দিকে এগোচ্ছিল, করিমের মুখ একটু একটু করে বদলে গেল। এতদিনের ক্লান্তি কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

তিনি মাঝিকে বললেন, “আর একটু সামনে নাও। পুরোনো ঘাটটা ওদিকে ছিল।”

মাঝি তাকিয়ে বলল, “এখানে তো অনেক বছর ধরে ঘাট নেই।”

করিম বললেন, “ছিল।”

নৌকা থামল।

ঘাট নেই।

বাড়িও নেই।

কেবল ভাঙা মাটির ঢিবি আর কিছু ঝোপঝাড়।

করিম ধীরে ধীরে নেমে দাঁড়ালেন। কয়েক পা এগিয়ে হঠাৎ থেমে গেলেন।

সামনে কদমগাছ।

বৃদ্ধ গাছটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

করিমের হাত থেকে লাঠি পড়ে গেল।

তিনি গাছটার কাছে গিয়ে দুই হাত দিয়ে কাণ্ড জড়িয়ে ধরলেন। কপাল ঠেকিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।

তারপর খুব আস্তে বললেন, “তুই আছিস!”

রাশেদ একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।

বাবার কাঁধ কাঁপছিল।

কিছুক্ষণ পর একজন এগিয়ে এলেন। ঠিক রাশেদের বয়সি নন, তার চেয়ে বড়। মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি কি করিম কাকা?”

করিম মাথা তুললেন।

“হ্যাঁ।”

লোকটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “আমার বাবা আপনার কথা বলতেন।”

করিমের ঠোঁট কেঁপে উঠল।

“তোমার বাবার নাম?

“হরিদাস।”

-আমার নাম রামদাস।

করিম যেন কিছুক্ষণ শ্বাস নিতে ভুলে গেলেন।

লোকটা বলল, “বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর হলো।”

করিম চোখ বন্ধ করলেন।

তারপর বললেন, “সে অনেকদিন অপেক্ষা করেছিল?”

লোকটা মৃদু হেসে বলল, “বাবা রোজ কদমগাছটার কাছে যেতেন।”

হরিদাসের ছেলে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেল। সামান্য আপ্যায়ন। তারপর পুরোনো টিনের একটা বাক্স বের করল।

বাক্সের ভেতর কাপড়, কিছু পুরোনো কাগজ আর একটা চিঠি।

চিঠিটা খুলে করিম পড়তে পারলেন না। চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।

রাশেদ পড়ে শোনাল।

চিঠিতে লেখা ছিল, করিম যদি কোনোদিন ফিরে আসে, তাকে কদমগাছটার নিচে দাঁড় করাতে। হরিদাস হয়তো থাকবে না। গাছটা থাকবে।

করিম মোল্লা চোখ মুছে বললেন, “হরিদাস কথা রেখেছে।”

রাশেদ বাবার দিকে তাকাল।

“কীভাবে?”

করিম গাছটার দিকে তাকিয়ে বললেন, “সে আমাকে বলেছিল, গাছটা থাকবে। এই গাছটার মধ্যেই সে আছে। ”

ফেরার আগে করিম মোল্লা উঠোন থেকে এক মুঠো মাটি তুলে নিলেন।

রাশেদ বলল, “এটা নিয়ে কী করবেন?”

করিম বললেন, “নিয়ে চল।”

‘‘কোথায় রাখব?’’

“তোর কাছে থাক।”

রাশেদ মাটিটা হাতে নিল। কয়েকটা ঝরা পাতায় মুড়ে পকেটে রাখলো।

বিদায়ের সময় রামদাস বলল, ‘আপনারা আবার আসবেন। আমি অপেক্ষা করব।’

ফেরার পথে করিম খুব কম কথা বললেন। নৌকার পাটাতনে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে ছিলেন।

হঠাৎ বললেন, “রাশেদ।”

“জি।”

“বাড়ি পাইনি।”

রাশেদ বাবার হাত ধরল।

করিম বললেন, “তবু মনে হচ্ছে অনেকদিন পর ঘরে ফিরলাম।”

কয়েক মাস পর করিম মোল্লা মারা গেলেন।

দাফনের সময় রাশেদ সেই এক মুঠো মাটি বাবার কবরে ছড়িয়ে দিল।

তারপর অনেকক্ষণ বসে রইল।

সেদিন তার মনে হলো, বাবা কোনো বাড়ি খুঁজতে যাননি। খুঁজতে গিয়েছিলেন নিজের ছোটবেলা। মায়ের মুখ। হারিয়ে যাওয়া বোন। কদমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক বন্ধুকে। আর সেই ছেলেটিকে, যে নদীর পানিতে হাঁটতে হাঁটতে বলেছিল, “আমি থাকব।”

বছর কয়েক কেটে গেল।

রাশেদের ছেলে একদিন পুরোনো ছবিটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, দাদুর বাড়ি কোথায় ছিল?”

রাশেদ জানালার বাইরে তাকাল।

দূরে নদী দেখা যাচ্ছিল।

বলল, “ওই নদীর ওপারে।”

ছেলে বলল, “বাড়িটা আছে?”

“না।”

“কিছুই নেই?”

রাশেদ একটু থেমে বলল, “একটা কদমগাছ আছে।”

ছেলে ছবিটার দিকে তাকাল।

“দাদু গাছটা দেখেছিলেন?”

“হ্যাঁ।”

“খুশি হয়েছিলেন?”

রাশেদের গলা ভারী হয়ে এলো।

“হয়েছিলেন।”

ছেলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর বলল, “আমরা কি একদিন যাব?”

রাশেদ ছেলের হাত ধরল।

“যাব।”

“কবে?”

রাশেদ উত্তর দেওয়ার আগে অনেকক্ষণ নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। বাবার কথা মনে পড়ল। সেই পুরোনো লাঠি। বাঁশের বাঁশি। কদমগাছের কাণ্ডে কপাল ঠেকানো এক বৃদ্ধ। আর বহু বছর আগে নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা হরিদাস।

তারপর বলল, “এবার আর দেরি করব না।”

ছেলে তার হাত আরও শক্ত করে ধরল।

রাশেদ ধীরে ধীরে বলল, তুই আমার সঙ্গে যাবি।”

ছেলে কথাটার ভেতরের ভার বুঝতে পারল না।

শুধু বাবার হাত ধরে রইল।

সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। মসজিদ থেকে আজান ভেসে এল। কিছুক্ষণ পর দূরের কোনো উঠোনে শঙ্খ বাজল।

রাশেদ ঘরে গিয়ে বাবার পুরোনো লাঠিটা বের করল। পাশে রাখল সেই ছবি।

ভোরে তারা রওনা হবে।

নদী থাকবে।

নদীর ওপারে কদমগাছটাও হয়তো থাকবে।

থাকবে তো?

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য ও আলোচনা

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ

বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ পুঁথি। সারাদিনের কাজ শেষে কুপি ও হারিকেনের আলোয় মানুষ জড়ো হয়ে পুঁথি শুনতেন।



কিটসের কল্পনার জগৎ

কিটসের কল্পনার জগৎ

যে ফুল আজ ফুটেছে, তা একদিন ঝরে যাবে। যে মুখ আজ সুন্দর, একদিন সেখানে বার্ধক্যের ছাপ পড়বে। যে হাসি আজ আনন্দে উজ্জ্বল, একদিন তার ওপর বেদনার ছায়া নেমে আসবে

বিস্তারিত......
সিংহের কেশরের নিচে

সিংহের কেশরের নিচে

এটি একটি ডেমো নিউজ যা সঠিক বাংলা ফন্ট দেখানোর জন্য যুক্ত করা হয়েছে।

বিস্তারিত......

বরিশালে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

বরিশালে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

'ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই' ফকির লালন শাহের এই গানের কথাকে সামনে রেখে বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।

বিস্তারিত......