বুধবার৪ নভেম্বর ২০২৬
মুক্ত তথ্য - The Daily Muktotathya
বিজ্ঞাপন/গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন
প্রচ্ছদ/সাহিত্য/কিটসের কল্পনার জগৎ
সাহিত্য

কিটসের কল্পনার জগৎ

যে ফুল আজ ফুটেছে, তা একদিন ঝরে যাবে। যে মুখ আজ সুন্দর, একদিন সেখানে বার্ধক্যের ছাপ পড়বে। যে হাসি আজ আনন্দে উজ্জ্বল, একদিন তার ওপর বেদনার ছায়া নেমে আসবে

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:০৬ PM23 বার পঠিত
কিটসের কল্পনার জগৎ
সংবাদটি শেয়ার করুন:

সাদিক ইসলাম *

ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক যুগে জন কিটস এক বিস্ময়কর নাম। স্বল্পায়ু এ কবি মাত্র ২৫ বছরের জীবনে যে কাব্যজগৎ নির্মাণ করেছিলেন, তাঁর সৌন্দর্য, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা, কল্পনার ঐশ্বর্য এবং জীবন-মৃত্যু সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি আজও পাঠককে মুগ্ধ করে। কিটস ছিলেন সৌন্দর্যের কবি, প্রকৃতির কবি, প্রেমের কবি; কিন্তু তাঁর কাব্যের অন্তর্গত গভীরতম শক্তি ছিল কল্পনা। বাস্তব জীবনের দুঃখ, অপ্রাপ্তি, প্রেমের ব্যর্থতা ও মৃত্যুচিন্তা থেকে তাঁর কল্পনা কখনো তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে এক মোহময়, কালাতীত জগতে। আবার সেই কল্পনার জগতের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে তিনি ফিরে এসেছেন কঠিন অথচ সত্য বাস্তবতায়। তাঁর নির্বস্ত থেকে বস্তুতে ফিরে আসার, গোথিক প্রপঞ্চ থেকে বাস্তব আলোতে পদার্পণ অসামান্য এক কাব্যিক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।

কিটসের কল্পনার এই যাত্রা তাই নিছক সৌন্দর্য অনুসন্ধানের যাত্রা নয়; এটি এক কবির আত্মোপলব্ধির যাত্রা- কল্পনা থেকে বাস্তব, মোহ থেকে সত্য, অমরত্বের ফাঁপা আকাক্সক্ষা থেকে নশ্বরতাকে স্বীকার করে নেওয়ার যাত্রা।

কিটসের কল্পনার বিশুদ্ধ যাত্রার সূচনা যেন Ode to Psyche-তে। এখানে কবি এমন এক কল্পনার জগৎ নির্মাণ করতে চান, যার ভিত্তি বাইরের কোনো প্রস্তুত বাস্তবতা নয়, বরং তাঁর নিজের অন্তরের সৃজনশক্তি। গ্রিক পুরাণের দেবী Psyche-কে তিনি আবিষ্কার করেন নিজের কল্পনার চোখে এবং তাকে নিজের কবিতার বেদিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

এখানে রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত পংক্তিগুলো মনে পড়ে-

“তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা

তুমি আমার সাধের সাধনা

শূন্য গগন-বিহারী আমি

আপন মনের মাধুরী মিশায়ে

তোমারে করিব রচনা।”

কিংবা নজরুল ইসলাম যেমন তাঁর প্রেমিকাকে কল্পনার স্বপ্ন ভান্ডার থেকে ঐশ্বর্য রাশি আর বিপুল সৌন্দর্য দিয়ে সাজাতে চান -

“মোর প্রিয়া হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল

কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।

কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা

হংস সারির দুলানো মালিকা

বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।”

রবীন্দ্রনাথ যেমন শূন্য আকাশের মেঘকে নিজের কল্পনার সঙ্গী করে একটি মোহময় ভুবন নির্মাণ করেন, কিটসও তেমনি নিজের কল্পনার শক্তি দিয়ে এক নতুন সৌন্দর্যের জগৎ সৃষ্টি করতে চান। অর্থাৎ কল্পনা এখানে বাস্তবের অনুকরণ নয়; কল্পনা নিজেই বাস্তব সৃষ্টি করে।

এই কল্পনার জগৎ আরও পূর্ণতা লাভ করে Ode on a Grecian Urn-এ। একটি গ্রিক urn বা শবাধারের গায়ে আঁকা প্রেমিক-প্রেমিকার ছবি দেখে কিটস কল্পনার এক অসাধারণ জগতে প্রবেশ করেন। সেখানে একজন তরুণ তার প্রিয়তমাকে চুম্বন করতে উদ্যত, কিন্তু চুম্বনটি কখনো সম্পূর্ণ হবে না। কারণ তারা ছবির মধ্যে চিরকাল একই মুহূর্তে অবস্থান করবে।

বাস্তব জীবনে প্রেমের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী। যৌবন একদিন শেষ হয়, সৌন্দর্য ম্লান হয়, প্রেমের উচ্ছ্বাস স্তিমিত হয়। কিন্তু শিল্পের মধ্যে সেই মুহূর্তটি যেন চিরদিনের জন্য স্থির হয়ে থাকে। কিটসের কাছে তাই শিল্প বাস্তবের চেয়ে এক অর্থে অধিক স্থায়ী।

বাস্তব জীবনের প্রেমিক-প্রেমিকা একদিন বৃদ্ধ হবে, তাদের সৌন্দর্য ক্ষয় হবে; কিন্তু শবাধারে আঁকা তরুণ-তরুণী চিরকাল তরুণ থাকবে। বাস্তবের আনন্দ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শিল্পের আনন্দ যেন শেষ হয় না।

এখানেই কিটসের কল্পনা এক গভীর প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায়-মানুষ নশ্বর, কিন্তু শিল্প কি অমর?

কিটস যেন উপলব্ধি করেন, বাস্তব জীবন আমাদের কাছ থেকে সৌন্দর্য কেড়ে নেয়, কিন্তু শিল্প সেই সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে পারে। তাই শিল্প ও কল্পনা মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনকে এক ধরনের চিরস্থায়িত্বের অনুভূতি দেয়। কিন্তু কল্পনা কি সত্যিই মানুষকে বাস্তবের দুঃখ থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি দিতে পারে? এই প্রশ্নের সবচেয়ে নাটকীয় উত্তর পাওয়া যায় Ode to a Nightingale-এ।

নাইটিঙ্গেলের গান শুনে কবি বাস্তব পৃথিবী থেকে দূরে চলে যেতে চান। ব্যক্তিগত জীবনের বেদনা, প্রিয়জন হারানোর শোক, প্রেমে অপ্রাপ্তি এবং মানুষের নশ্বরতা তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। তাই নাইটিঙ্গেলের গান তাঁর কাছে হয়ে ওঠে এক মোহময় মুক্তির দরজা।

কবি কল্পনা করেন, তিনি যেন কোনো অন্ধকার, অজানা নির্জন বনের মধ্যে বসে আছেন এবং মদ বা মায়াবী সুধার নেশায় ধীরে ধীরে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। তিনি গায়ক পাখিটির সঙ্গে এমন এক জগতে মিলিয়ে যেতে চান, যেখানে মানুষের কান্না, রোগ, বার্ধক্য ও মৃত্যুর যন্ত্রণা নেই।

নাইটিঙ্গেলের গান যেন সময়ের ঊর্ধ্বে। অতীতের মানুষ যে গান শুনেছে, বর্তমানের মানুষও তা শুনছে, ভবিষ্যতের মানুষও শুনবে। পাখিটির গান তাই কবির কাছে এক ধরনের অমরত্বের প্রতীক। কিন্তু মানুষ? মানুষ তো ক্ষণস্থায়ী। মানুষ জন্মায়, ভালোবাসে, কাঁদে এবং একদিন মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

কবির মনে হয়-নাইটিঙ্গেলের সঙ্গে মিশে গিয়ে মৃত্যুর মতো নিশ্চুপ হয়ে যাওয়াই হয়তো মুক্তি। কারণ মৃত্যু যেমন অনিবার্য, তেমনি তা মানুষের সমস্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তিও এনে দেয়। তন্দ্রাচ্ছন্ন কবি বলেন আমি বাস্তব জীবনের আঘাতে এত বেশি ক্ষতবিক্ষত, আমি যেন মৃত্যুকে ভালোবেসে ফেলেছি। কারণ মৃত্যু পৃথিবীর সমস্ত শারীরিক মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে দেয়। এটা কবির কল্পনার অর্থ যাত্রাকাল।

কিন্তু এই কল্পনার যাত্রা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় না। কবির তন্দ্রা ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, নাইটিঙ্গেলের গান যতই মায়াবী হোক, তা তাঁকে চিরদিন বাস্তব জীবন থেকে দূরে রাখতে পারবে না। কুহক ভেঙে যায়; কবি আবার বাস্তব পৃথিবীতে ফিরে আসেন। নাইটিঙ্গেল পাখি উড়ে যেতে যেতে কার ভ্রান্ত কল্পনাকে সঙ্গী করে নিয়ে চলে যায়।

এখানেই কিটসের কল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা প্রকাশ পায়-কল্পনা মানুষকে বাস্তবের যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে, কিন্তু বাস্তবকে চিরদিনের জন্য অস্বীকার করতে পারে না।

Ode on Melancholy-তে কিটসের চিন্তায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। এখানে তিনি আর কেবল দুঃখ থেকে পালাতে চান না; বরং দুঃখের মধ্যেই জীবনের সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে শুরু করেন।

তিনি উপলব্ধি করেন, আনন্দের সঙ্গে বেদনা, সৌন্দর্যের সঙ্গে ক্ষয়, জন্মের সঙ্গে মৃত্যু-সবকিছুই পাশাপাশি অবস্থান করে। যে ফুল আজ ফুটেছে, তা একদিন ঝরে যাবে। যে মুখ আজ সুন্দর, একদিন সেখানে বার্ধক্যের ছাপ পড়বে। যে হাসি আজ আনন্দে উজ্জ্বল, একদিন তার ওপর বেদনার ছায়া নেমে আসবে। কিন্তু এই ক্ষয়ই কি সৌন্দর্যকে আরও মূল্যবান করে তোলে না?

যদি আনন্দ চিরস্থায়ী হতো, তবে আনন্দের মূল্য হয়তো এত গভীর হতো না। যদি সৌন্দর্যের কোনো ক্ষয় না থাকত, তবে সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণও হয়তো এত তীব্র হতো না। কিটস যেন আবিষ্কার করেন-নশ্বরতাই সৌন্দর্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়।

এখানে রবীন্দ্রনাথের সেই গভীর জীবনবোধ আবার মনে পড়ে-

“হাসিকান্না হীরাপান্না দোলে ভালে,

কাঁপে ছন্দে ভালোমন্দ তালে তালে,

নাচে জন্ম, নাচে মৃত্যু পাছে পাছে।”

জীবন শুধু হাসি নয়, শুধু কান্নাও নয়। জীবন হলো হাসি-কান্নার সম্মিলিত সুর। আনন্দকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে হলে বেদনার অস্তিত্বকেও মেনে নিতে হয়।

এই উপলব্ধির সর্বোচ্চ পরিণতি যেন কিটসের To Autumnসহ কবিতায়। এখানে তিনি আর নাইটিঙ্গেলের মতো কোনো কুহকী পাখির গানে ডুবে যেতে চান না, কোনো গ্রিক urn-এর চিরস্থায়ী সৌন্দর্যের মধ্যে আশ্রয় নিতে চান না। তিনি নেমে আসেন একেবারে মাটির পৃথিবীতে।

শরৎ এখানে কোনো বিমূর্ত স্বর্গীয় সৌন্দর্য নয়। এটি মাঠের শস্য, ফলের ভারে নুয়ে পড়া গাছ, পাকা ফসল, মৌমাছির মধু, কৃষকের পরিশ্রম এবং প্রকৃতির পরিণত সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত।

Ode to Psyche-তে তিনি শূন্যতা থেকে কল্পনার জগৎ নির্মাণ করেছিলেন।

Grecian Urn-এ তিনি শিল্পের মধ্যে সৌন্দর্যকে অমর করতে চেয়েছিলেন।

Nightingale-এ তিনি বাস্তবের দুঃখ থেকে কল্পনার মাধ্যমে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

Melancholy-তে সুখ ও দুঃখের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আবিষ্কার করেছিলেন।

আর To Autumn-এ এসে কবি নশ্বর বাস্তব পৃথিবীকেই ভালোবেসে গ্রহণ করেন।

এখানে শরৎ মানেই পরিপূর্ণতা এবং একই সঙ্গে আসন্ন অবসান। ফসল পেকেছে, প্রকৃতি পূর্ণ হয়েছে; কিন্তু এই পূর্ণতার মধ্যেই শীতের আগমন লুকিয়ে আছে। অর্থাৎ জীবনের মতো প্রকৃতিও জানে-পরিপূর্ণতার পরেই আসে ক্ষয়।

এই উপলব্ধি রবার্ট ফ্রস্টের জীবনবোধের কথাও মনে করিয়ে দেয়- মানুষকে জীবনের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পূরণ করে তারপর বিদায় নিতে হয়। পৃথিবী কঠিন, জীবন কঠিন; কিন্তু সেই কঠিন পৃথিবীকে ভালোবেসেই তো মানুষের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে হয়।

কিটসের কল্পনার জগৎ গড়ে উঠেছে প্রকৃতি, সৌন্দর্য এবং গ্রিক পুরাণের গভীর প্রভাবের মধ্যে। প্রকৃতির ফুল, পাখি, ঋতু, আলো, ছায়া, ফল, গন্ধ-সবকিছুই তাঁর কবিতায় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৌন্দর্যে রূপ পায়। তিনি শুধু প্রকৃতিকে দেখেননি; তিনি তাঁকে অনুভব করেছেন।

একইভাবে গ্রিক পুরাণ তার কল্পনাকে দিয়েছিল এক বিস্ময়কর প্রতীকভান্ডার। Psyche, দেবদেবী, পুরাণের প্রেমকাহিনি, গ্রিক শিল্প-এসব তার কাছে কেবল অতীতের গল্প নয়। তিনি এগুলোকে নিজের কল্পনার জগতে পুনর্নির্মাণ করেছেন। জন কিটস গ্রিক দেশে মানসিকভাবে ভ্রমণ করেন, যেমনভাবে ডব্লিউ বি ইয়েটস বাইজেন্টাইন রাজ্যে কল্পনার পাখায় উড়ে যান বাস্তবের ক্লান্তি এবং অপূর্ণতা ঢাকতে। কিন্তু পরিশেষে তারা এই পৃথিবীর মায়াময় বাস্তবে ফিরে আসেন। রবীন্দ্রনাথও কল্পনায় সৃষ্ট মিথ্যা ভুবনে ব্যর্থ হয়ে কঠিন সত্যকে ভালোবেসে বাস্তব জীবনে ফিরে আসেন-

“আমি কেবলই স্বপন করেছি বপন বাতাসে-

তাই আকাশকুসুম করিনু চয়ন হতাশে।”

তবে কিটসের প্রকৃতি ও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেনি। বরং তার কাব্যযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে শিখেছেন-সৌন্দর্যকে ভালোবাসার অর্থ বাস্তবের ক্ষয়কে অস্বীকার করা নয়।

জন কিটসের কাব্যজগতের দিকে তাকালে আমরা একজন কবির মানসিক বিবর্তন দেখতে পাই। প্রথমে তিনি কল্পনার শক্তিতে একটি নির্মল সৌন্দর্যের জগৎ সৃষ্টি করেন। তারপর শিল্পের মধ্যে অমরত্বের সন্ধান করেন। জীবনের দুঃখ থেকে পালাতে নাইটিঙ্গেলের গান অনুসরণ করে কল্পনার অন্ধকার বনে প্রবেশ করেন। কিন্তু কুহক ভেঙে গেলে বাস্তবে ফিরে আসেন। এরপর তিনি উপলব্ধি করেন- জীবনের আনন্দ ও বেদনা পরস্পরের শত্রু নয়; বরং তারা একে অপরকে পূর্ণতা দেয়। শেষ পর্যন্ত To Autumn-এ এসে তিনি মেনে নেন পৃথিবীকে তার সমস্ত সৌন্দর্য, ক্ষয়, পরিণতি ও মৃত্যুসহ।

এ কারণেই কিটসের কল্পনা কোনো ফাঁপা স্বপ্নের জগৎ নয়। তাঁর কল্পনা আমাদের বাস্তবকে আরও সুন্দর করে দেখতে শেখায়। শিল্প আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনের মুহূর্তগুলোকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। একটি ফুল ঝরে যাবে জেনেও আমরা তাকে ভালোবাসি; একটি প্রেম একদিন শেষ হতে পারে জেনেও আমরা ভালোবাসি; মানুষ নশ্বর জেনেও আমরা মানুষকে ভালোবাসি।

জীবন চিরস্থায়ী নয়-এটাই তার দুঃখ, কিন্তু জীবন চিরস্থায়ী নয় বলেই প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান-এটাই তার সৌন্দর্য।

কিটসের কাব্যযাত্রা তাই শেষ পর্যন্ত কল্পনা থেকে বাস্তবের দিকে, অমরত্বের আকাক্সক্ষা থেকে নশ্বরতাকে গ্রহণের দিকে এবং কুহক থেকে সত্যের দিকে এক গভীর মানবিক যাত্রা। কল্পনা আমাদের আকাশে উড়তে শেখায়। শিল্প আমাদের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে শেখায়; কিন্তু জীবন আমাদের শেষ পর্যন্ত মাটিতে ফিরিয়ে আনে। আর সেই মাটির পৃথিবীকেই তার আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, জন্ম-মৃত্যু ও ক্ষয়সহ ভালোবাসতে শেখাই হয়তো কীটসের সবচেয়ে বড় উপলব্ধি।

বিজ্ঞাপন

পাঠকের মন্তব্য ও আলোচনা

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ

শিল্পকলায় পুঁথিপাঠ

বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ পুঁথি। সারাদিনের কাজ শেষে কুপি ও হারিকেনের আলোয় মানুষ জড়ো হয়ে পুঁথি শুনতেন।



গল্প : সীমানদী

গল্প : সীমানদী

সেই কবে কোন কালে, ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নদীয়া জেলার শিমুলিয়া গ্রামে সন্ধ্যা নামলে, দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে।

বিস্তারিত......
সিংহের কেশরের নিচে

সিংহের কেশরের নিচে

এটি একটি ডেমো নিউজ যা সঠিক বাংলা ফন্ট দেখানোর জন্য যুক্ত করা হয়েছে।

বিস্তারিত......

বরিশালে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

বরিশালে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

'ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই' ফকির লালন শাহের এই গানের কথাকে সামনে রেখে বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।

বিস্তারিত......