প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফুলকপি রাখবেন কেন?
শীতকালীন ফুলকপি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের সুস্বাদু পদ। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে ফুলকপি রাখলে মিলতে পারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্য আঁশ।

মুক্ততথ্য ডেস্ক
শীতকালীন ফুলকপি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরনের সুস্বাদু পদ। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে ফুলকপি রাখলে মিলতে পারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্য আঁশ। একসময় ফুলকপি অতিরিক্ত সেদ্ধ করে রান্না করার প্রবণতা ছিল, ফলে এর স্বাদ ও গঠন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেত। এখন অবশ্য ঐতিহ্যবাহী তরকারি থেকে শুরু করে ভাজা সবজি, এমনকি ভাত ও আলুর বিকল্প হিসেবেও ফুলকপি খাওয়া হয়।
হজমের স্বাস্থ্যে ফুলকপির ভূমিকা পুষ্টিবিদের মতে, ফুলকপি খাদ্য আঁশের একটি ভালো উৎস, যদিও অন্যান্য কিছু সবজির তুলনায় এতে আঁশের পরিমাণ খুব বেশি নয়। ফুলকপির খাদ্য আঁশের বড় একটি অংশ অদ্রবণীয়। এই আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। ফলে আঁশসমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে ফুলকপি খাওয়াও হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ফুলকপিতে চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক কম। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এটি সহজেই মানিয়ে যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকাতেও ফুলকপি রাখা যেতে পারে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোট ক্যালরি গ্রহণ এবং রান্নায় ব্যবহৃত তেলসহ অন্যান্য উপকরণের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
পাতা ও ডাঁটা ফেলে দেবেন না ফুলকপি রান্নার সময় অনেকেই এর পাতা ও ডাঁটা ফেলে দেন। অথচ এই অংশগুলোও খাওয়ার উপযোগী। ফুলকপির পাতা কুচি করে স্যুপে ব্যবহার করা যায়। ডাঁটা ছোট টুকরা করে ফুলের অংশের সঙ্গে রান্না করা সম্ভব। এ ছাড়া গাজরের খোসা, ব্রকলির ডাঁটা ও অন্যান্য সবজির অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে ফুলকপির পাতা-ডাঁটা মিশিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় সবজির স্টক। এভাবে ফুলকপির প্রতিটি অংশ কাজে লাগালে খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আরও বেশি সবজি যুক্ত করা সম্ভব।
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে যেসব ভিটামিন ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, ভিটামিন বি৬ ও প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি৫। এ ছাড়া এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়। ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে এবং কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কোলাজেন ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ভিটামিন বি৬ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রোটিন বিপাকে ভূমিকা রাখে। আর প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড শরীরকে খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি নির্দিষ্ট কিছু হরমোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যৌগ তৈরির প্রক্রিয়াতেও যুক্ত। পরিচিত এই সবজিটি শুধু তরকারির স্বাদ বাড়ায় না, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের খাবার হোক কিংবা দুপুরের মেনু, নানা পদের সঙ্গে ফুলকপি রাখলে খাবারে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি পাওয়া যেতে পারে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
সূত্র : সামা





