বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি
রাজধানীর নাটক সরণিখ্যাত বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
রাজধানীর নাটক সরণিখ্যাত বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। রবিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত ৬৩ জন নাট্যকর্মী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ দাবি জানান তারা। বিবৃতিতে তারা বলেন, আগে এই মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে নাট্যদলগুলোকে একই শিফটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ব্যয় বেড়েছে। এতে আর্থিক চাপে পড়েছে নাট্যদলগুলো; কমেছে মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহও।
তারা বলেন, আমরা মনে করি, মহিলা সমিতির মঞ্চে নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে দ্রুত সরকারি ভর্তুকি পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। দেশের নাট্যচর্চার সৃজনশীল বিকাশ অব্যাহত রাখতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ১৯৭৩ সালে মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। নাট্যদলগুলোর কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এই সড়কের নাম ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাখেন ‘নাটক সরণি’। স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় মহিলা সমিতির এই মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু মিলনায়তন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক নাট্যদলই এখন এই মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। টিকিট বিক্রি করে প্রদর্শনীর খরচ তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নাট্যচর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নাট্যদলগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।
বিবৃতিতে তারা জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রণোদনা বাবদ সরকারি অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটির বিপরীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে ১১ মাসের জন্য মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে। বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা মনে করি, দেশের নাট্য-ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই প্রণোদনা বহাল রাখা সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এমনিতেই খুব সামান্য। সেই সামান্য পৃষ্ঠপোষকতাও বন্ধ হয়ে যাওয়া হতাশাজনক।




